
স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর সূত্রাপুর থানা এলাকার ভেতর প্রকাশ্যে গুলি করে ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে এই ঘটনাই কি প্রমাণ করে না যে অপরাধীরা এখন আর থানা-পুলিশকেও তোয়াক্কা করে না? নাকি এর চেয়েও ভয়াবহ সত্য হলো, এমন স্পর্শকাতর হত্যাকাণ্ডের মামলাটি আজ কার্যত পুলিশের ফাইল হিমাগারে?
ঘটনার পর মামলা দায়ের হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। একজন ব্যবসায়ীকে দিনের আলোতে, থানা এলাকার মধ্যেই গুলি করে হত্যা করা হলেও এখনো ৩ নং আসামি অভিযুক্তরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে প্রশ্ন উঠছে, তদন্ত কি আদৌ এগোচ্ছে, নাকি কেবল কাগজে-কলমে টিকে আছে?
সূত্রাপুর থানা এলাকা রাজধানীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও বাণিজ্যিক অঞ্চল। এখানে নিয়মিত টহল, সিসিটিভি নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের উপস্থিতি থাকার কথা। তা হলে হত্যাকাণ্ডের পরপরই অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি কেন? সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল লোকেশন কিংবা তথ্যদাতাদের তথ্য কি ব্যবহার করা হয়েছে না কি সেগুলো উপেক্ষিত?
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মামলার অগ্রগতি জানতে গেলেই তারা অনিশ্চয়তা ও অস্পষ্ট জবাব পাচ্ছেন। তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন, তারিখের পর তারিখ পার হয়ে যাওয়া এসব কি মামলাটি ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার কৌশল নয়?
আরও গুরুতর প্রশ্ন হলো হত্যার পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা চক্রের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না। যদি থাকে, তবে তদন্ত কি সেই প্রভাবের কাছেই আটকে যাচ্ছে? নাকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ‘নিরাপদ পথ’ বেছে নিচ্ছে?
একজন ব্যবসায়ীকে এভাবে হত্যা করে যদি বিচার না হয়, তবে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা পাবে কোথায়? সূত্রাপুরের মতো থানাধীন এলাকায় যদি খুনের বিচার ঝুলে থাকে, তবে দেশের অন্য এলাকাগুলোর অবস্থা কেমন সেই প্রশ্নও উঠে আসে।?
প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট জবাব চাওয়া জরুরি এই মামলার তদন্ত কোন পর্যায়ে? কবে গ্রেপ্তার হবে মূল অভিযুক্তরা? আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে নিহতের পরিবারকে?
ন্যায়বিচার বিলম্বিত হওয়া মানেই ন্যায়বিচার অস্বীকার। সূত্রাপুর থানা এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান হত্যা মামলাটি যদি সত্যিই ফাইল হিমাগারে পড়ে থাকে, তবে সেটি শুধু একটি মামলার পরিণতি নয় এটি হবে আইনশৃঙ্ঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থার আরেকটি ধস?
Reporter Name 






















