
(কৃষি বিভাগের নীরবতায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য, উজাড় হচ্ছে মাটির উর্বরতা)
মন্জুরুল আহসান শামীম কাউনিয়া রংপুর প্রতিনিধিঃ রংপুরের কাউনিয়ায় ফসলের বৈচিত্র্য ছাপিয়ে আবারও দাপট দেখাচ্ছে ‘বিষবৃক্ষ’ তামাক। তামাক কোম্পানিগুলোর নজরকাড়া হাতছানি আর কৃষি বিভাগের নামমাত্র তদারকিতে উপজেলার মাঠগুলো এখন তামাকের দখলে। ফলে ধান-ভুট্টা আর মরিচ-পেঁয়াজের আবাদ ছেড়ে মরণঘাতী এই চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা।
তিস্তার চরাঞ্চল ও আশপাশের গ্রামগুলোতে এখন দুচোখ যেদিকে যায়, শুধু তামাকের ঘন সবুজ ক্ষেত। কয়েকদিন পরেই শুরু হবে তামাক পোড়ানোর মৌসুম। তখন পুরো এলাকার বাতাস তামাটে গন্ধে ভারি হয়ে উঠবে। কৃষকদের আঙিনায় পা ফেলার জায়গা থাকবে না; নারী, পুরুষ এমনকি শিশুরাও ব্যস্ত হয়ে পড়বে বিষাক্ত পাতা শুকানোর কাজে।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তামাক কোম্পানিগুলো চাষিদের দিচ্ছে সুদমুক্ত ঋণ, নিশ্চিত বাজার আর বাড়ি থেকে পণ্য কিনে নেওয়ার গ্যারান্টি। খোদ্দ ভূতছাড়া গ্রামের কৃষক জিয়ারুল ইসলাম সাফ জানালেন, “সরকার আলু-পেঁয়াজের দাম দেয় না, লোকসান হয়। কিন্তু তামাকের কোম্পানিগুলো আগেই দর ঠিক করে দেয়, পরামর্শ দেয়। আমরা তো লাভের দিকেই যাব।”
তামাক চাষ কেবল মাটির বুক চিরে উর্বরতা শুষে নিচ্ছে না, বিলিয়ে দিচ্ছে রোগ-বালাইও। স্থানীয় চিকিৎসক জুহা সতর্ক করে বলেছেন, “তামাক চাষ ও সেবনে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও ক্যান্সারের হার বাড়ছে। এই বিষক্রিয়া পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য চরম হুমকি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার দাবি করেছেন, তামাক চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে মাঠের চিত্র বলছে, কৃষি বিভাগের এই ‘নিরুৎসাহিত’ করার ভূমিকা কেবল গদবাঁধা বুলি আর কাগজেই সীমাবদ্ধ। তামাক কোম্পানির মাঠকর্মীরা যেখানে চাষিদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছে, সেখানে কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি দেখাই মেলে না।
এভাবে চলতে থাকলে কাউনিয়ার উর্বর জমি যেমন শস্যহীন হয়ে পড়বে, তেমনি তামাকের নীল দংশনে ধুঁকবে আগামীর প্রজন্ম।
Reporter Name 























