
বিকাল বার্তা ডেস্ক: রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় কাটা হাত, পা, মাথা ও ড্রামে ভাসমান ধড় উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। অনৈতিক প্রস্তাব ও ঝগড়াবিবাদের জেরে ওবায়দুল্লাহ (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে মরদেহ সাত টুকরা করেন তাঁরই সহবাসী শাহীন এমন তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
রোববার দুপুর ১২টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশীদ এ তথ্য জানান।
ডিসি হারুন-অর-রশীদ বলেন, ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বিভাগে কাজ করতেন এবং শাহীন কর্মরত ছিলেন হোটেল হিরাঝিল-এ। তাঁরা রাজধানীর জসীমউদ্দীন রোডের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে ঝগড়ার একপর্যায়ে বাথরুমে থাকা অবস্থায় ওবায়দুল্লাহকে পেছন থেকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন শাহীন। পরে রাত ৯টার পর থেকে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে সাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ফেলে আসেন। সিসিটিভি ফুটেজে খণ্ডিত অংশ বহনের দৃশ্য পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ। অভিযুক্ত শাহীন জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন এবং তাঁর কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার হয় রাজধানীর কয়েকটি স্থানে নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররম-এর গেটের পাশে একটি পা, কমলাপুর রেলস্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় মাথা এবং মতিঝিলে ময়লাবোঝাই কনটেইনারের ড্রামে ধড়। বাকি অংশগুলো আমিনবাজার সালিপুর ব্রিজ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানায় শাহীন। সেখানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানায়, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার তাতারকান্দি গ্রামে।
ডিসি হারুন-অর-রশীদ বলেন, “হত্যার পর শাহীন স্বাভাবিকভাবে চাকরিতে যোগ দেন এবং আশপাশের মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করেন। তাঁকে হিরাঝিল হোটেল থেকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
Reporter Name 






















