বাংলাদেশ ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জে মানব পাচারের অভিযোগে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি আদালতে মামলা 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১৫:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • ৮২ Time View

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি।। হবিগঞ্জে মানব পাচারের অভিযোগে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২-এর ৬/৭/৮/৯/১০(১) ধারায় দায়ের করা হয়েছে।

মামলার বাদী নবীগঞ্জ উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা গ্রামের মৃত ফিরোজ খানের পুত্র অলি খান (৪৩)। তিনি বাদী গুমগুমিয়া গ্রামের মৃত মাওলানা শামছুদ্দিনের পুত্র কাজী হাসান আলী (৫২), অভয়নগরের কাজী হাসান আলীর স্ত্রী রেখা বেগম (৪৫), এবং আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র আব্দুর বাহিত (২৬), কে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৮/১২/২০২৫ ইং তারিখে অফিস চলাকালীন যেকোনো সময় এবং ২২/০২/২০২৬ ইং তারিখ বিকাল অনুমান ৪টায় পৃথক দুইটি ঘটনায় আসামিরা প্রতারণার আশ্রয় নেয়। ঘটনাস্থল বাদীর বসতবাড়ি। ভিকটিম আহম্মদ খান (৪০), পিতা মৃত ফিরোজ খান, থানা-নবীগঞ্জ, জেলা-হবিগঞ্জ।

 

অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী ও দালাল চক্রের সদস্য। তারা এলাকার নিরীহ ও সরল মানুষদের বিদেশে ভালো বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করে অর্থ হাতিয়ে নেয়। ৩ নম্বর আসামির মাধ্যমে ১ ও ২ নম্বর আসামি লোক সংগ্রহ করে বিদেশ পাঠানোর কাজ করে থাকে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

বাদীর ভাষ্যমতে, তার ভাই আহম্মদ খানকে ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে পাঠানোর কথা বলে আসামিরা তার বাড়িতে আসে। এ সময় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে নগদ ১,৬০,০০০ টাকা (এক হাজার টাকার ১৬০টি নোট) ও পাসপোর্ট গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ১৭/১২/২০২৫ ইং তারিখে ১ নম্বর আসামি তার ভাইকে নিয়ে ওমরার উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করে। ওমরা শেষে ১ নম্বর আসামি দেশে ফিরলেও ভিকটিম আহম্মদ খান আর দেশে ফেরেননি।

 

বাদীর দাবি, ভাই দেশে না ফেরায় তিনি একাধিকবার ১ নম্বর আসামির বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেন। প্রথমদিকে তাকে আশ্বস্ত করা হলেও পরে ১ নম্বর আসামি ২০,০০,০০০ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা দিলে ভিকটিমকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানায়। ২২/০২/২০২৬ ইং তারিখ বিকালে সাক্ষীদের নিয়ে আসামিদের কাছে গেলে তারা মুক্তিপণের টাকা ছাড়া ভিকটিমকে ফেরত দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানায় এবং এ বিষয়ে মামলা করলে বাদীকেও একই পরিণতির হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়।

 

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিনেও ভিকটিমের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তিনি জীবিত না মৃত তা জানা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানায় গেলে আদালতে মামলা করার মৌখিক পরামর্শ দেওয়া হয় বলে বাদী দাবি করেন। এ বিষয়ে আদালতের আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

jogo hosterbd

Popular Post
error: Content is protected !!

হবিগঞ্জে মানব পাচারের অভিযোগে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি আদালতে মামলা 

Update Time : ০৭:১৫:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি।। হবিগঞ্জে মানব পাচারের অভিযোগে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২-এর ৬/৭/৮/৯/১০(১) ধারায় দায়ের করা হয়েছে।

মামলার বাদী নবীগঞ্জ উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা গ্রামের মৃত ফিরোজ খানের পুত্র অলি খান (৪৩)। তিনি বাদী গুমগুমিয়া গ্রামের মৃত মাওলানা শামছুদ্দিনের পুত্র কাজী হাসান আলী (৫২), অভয়নগরের কাজী হাসান আলীর স্ত্রী রেখা বেগম (৪৫), এবং আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র আব্দুর বাহিত (২৬), কে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৮/১২/২০২৫ ইং তারিখে অফিস চলাকালীন যেকোনো সময় এবং ২২/০২/২০২৬ ইং তারিখ বিকাল অনুমান ৪টায় পৃথক দুইটি ঘটনায় আসামিরা প্রতারণার আশ্রয় নেয়। ঘটনাস্থল বাদীর বসতবাড়ি। ভিকটিম আহম্মদ খান (৪০), পিতা মৃত ফিরোজ খান, থানা-নবীগঞ্জ, জেলা-হবিগঞ্জ।

 

অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী ও দালাল চক্রের সদস্য। তারা এলাকার নিরীহ ও সরল মানুষদের বিদেশে ভালো বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করে অর্থ হাতিয়ে নেয়। ৩ নম্বর আসামির মাধ্যমে ১ ও ২ নম্বর আসামি লোক সংগ্রহ করে বিদেশ পাঠানোর কাজ করে থাকে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

বাদীর ভাষ্যমতে, তার ভাই আহম্মদ খানকে ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে পাঠানোর কথা বলে আসামিরা তার বাড়িতে আসে। এ সময় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে নগদ ১,৬০,০০০ টাকা (এক হাজার টাকার ১৬০টি নোট) ও পাসপোর্ট গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ১৭/১২/২০২৫ ইং তারিখে ১ নম্বর আসামি তার ভাইকে নিয়ে ওমরার উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করে। ওমরা শেষে ১ নম্বর আসামি দেশে ফিরলেও ভিকটিম আহম্মদ খান আর দেশে ফেরেননি।

 

বাদীর দাবি, ভাই দেশে না ফেরায় তিনি একাধিকবার ১ নম্বর আসামির বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেন। প্রথমদিকে তাকে আশ্বস্ত করা হলেও পরে ১ নম্বর আসামি ২০,০০,০০০ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা দিলে ভিকটিমকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানায়। ২২/০২/২০২৬ ইং তারিখ বিকালে সাক্ষীদের নিয়ে আসামিদের কাছে গেলে তারা মুক্তিপণের টাকা ছাড়া ভিকটিমকে ফেরত দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানায় এবং এ বিষয়ে মামলা করলে বাদীকেও একই পরিণতির হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়।

 

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিনেও ভিকটিমের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তিনি জীবিত না মৃত তা জানা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানায় গেলে আদালতে মামলা করার মৌখিক পরামর্শ দেওয়া হয় বলে বাদী দাবি করেন। এ বিষয়ে আদালতের আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।