
ক্রাইম প্রতিবেদকঃ সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন কাজিরবাজার সেতু যা একসময় নগরবাসীর বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আজ তা পরিণত হয়েছে বিশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের এক আতঙ্কজনক কেন্দ্রে। ১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতু এখন জনসাধারণের নিরাপদ চলাচলের পরিবর্তে দখল, দৌরাত্ম্য ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে জর্জরিত।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ সুরমা থানার এএসআই অরুণের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি দায়িত্ব পালনের আড়ালে গড়ে তুলেছেন একটি অনৈতিক অর্থ আদায়ের নেটওয়ার্ক। অভিযোগ রয়েছে সেতুর দুই পাশে বসা চটপটি-ফুচকার দোকান থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করা হয় তার প্রত্যক্ষ মদদে।
প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে এএসআই অরুণ পথচারীদের আটক করে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী। পূর্বে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও রহস্যজনকভাবে তা ধামাচাপা পড়ে যায়, যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
এদিকে, সেতুর ফুটপাত যা মূলত পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্মিত তা দখল করে বসানো হয়েছে চেয়ার-টেবিল। দোকানপাট এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে যানবাহন চলাচলের রাস্তা পর্যন্ত সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেপরোয়া তরুণদের দৌরাত্ম্য হাইড্রলিক সাইকেল ও মোটরসাইকেল নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্ট, যা সেতুটিকে পরিণত করেছে এক ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদে।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, ‘সেলফি ব্রিজ’ খ্যাত এই এলাকাটি এখন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। বিনোদনের আড়ালে এখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে দেহব্যবসায় জড়িত চক্র, যা পরিবেশকে করছে অশোভন ও ঝুঁকিপূর্ণ।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর প্রশ্ন একজন পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যদি নিজেই অনিয়ম ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকেন, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সিলেটের সচেতন মহল বলছে, প্রশাসনের নীরবতা এই অনিয়মকে আরও উৎসাহিত করছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
পরবর্তীতে থাকছে দক্ষিণ সুরমা থানা ওসি,ও, এ এস আই অরুনের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্য তথ্য।
Reporter Name 























